ভগবান নারী সৃষ্টি করেছিলেন কিভাবে, নারী সৃষ্টির রহস্য।

 গল্পকথার জগতে আপনাদের সকলকে স্বাগত। 

নারী-সৃষ্টির-রহস্য-নারীদের-কিছু-রহস্যময়-কিছু-কথা-ভগবান-নারী-সৃষ্টি-করেছিলেন-কিভাবে

আজ আপনাদের জানাবো বিশ্বজগতে নারীর সৃষ্টি হলো কিভাবে? 

তবে এটা শুরু করার আগে প্রতিদিনের মতো আপনাদের কাছে আমাদের একটি ছোট্ট অনুরোধ, যারা এখনো আমাদের ওয়েবসাইটটি  সাবস্ক্রাইব করেননি অবশ্যই ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং নোটিফিকেশনটি অন করে রাখুন যাতে আমাদের আপলোড করা প্রতিটি স্ক্রিপ্ট  নোটিফিকেশন এর দ্বারা খুব সহজেই আপনার কাছে পৌঁছে যায়। 

তো চলুন শুরু করা যাক আজকের স্ক্রিপ্টটি। 

হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয় এই বিশ্ব সংসারের সৃষ্টিকর্তা হলেন একমাত্র স্বয়ং ভগবান।

ভগবানের বহু সংখ্যক সৃষ্টির মধ্যে এক অদ্ভুত রহস্যময়  সৃষ্টি হলো নারী।

সমাজে একটা কথা বড়ই প্রচলিত যে এই বিশ্ব সংসারের সব থেকে কঠিন হলো নারীর মন বোঝা।

আরো বলা হয়ে থাকে স্বয়ং ভগবান নাকি নারী বা মেয়েদের মন বুঝতে পারেন না।

তাই আজ আমরা জানবো এই নারীর সৃষ্টি হলো কিভাবে, কি কি গুণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল এই নারী, শক্তি কিভাবেই বা স্বয়ং ভগবান নারী সৃষ্টি করেছিলেন।

স্বয়ং ভগবান যখন নারী সৃষ্টি করছিলেন তখন সেই সৃষ্টির কার্যের সময় অনেক কাল পর্যন্ত চলতে থাকে, দীর্ঘ সময় ব্যয় করার পরেও ভগবানের সেই সৃষ্টি প্রক্রিয়া যেন আর শেষই হয় না।

এমন সময় দেবশ্রী নারদ ভগবানকে প্রশ্ন করলেন।

 হে প্রভু, আপনি তো মাত্র অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই গোটা বিশ্ব সংসারকে রচনা করেছেন।

কিন্তু এই নারী বা স্ত্রীলোক সৃষ্টি করতে আপনার এত সময় কেন লাগছে?

তখন ভগবান বলেন হে মহর্ষি এই নারী বা স্ত্রী হলো এমন এক সৃষ্টি যা বহু বিচিত্র গুনের এক সম্মিলিত রূপ।

 নারী বা স্ত্রী যেকোনো পরিস্থিতিতেই নিজেকে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তার পক্ষে অনুকূল হোক বা প্রতিকূল, কিন্তু সে কখনো ভেঙে পড়ে না।

যে কোন ভয়ানক পরিস্থিতিতেই এই নারী বা স্ত্রী নিজেকে সামলাতে পারে, নিজের বিচিত্র গুণাবলীর দ্বারা পরিবারের সকলকে সে খুশি রাখে, নিজের শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সংসারের যাবতীয় কাজের বোঝা নিজের কাঁধে চাপিয়ে নিয়ে পরিবারের সকলকে ভালো রাখে।

 এই নারী বা স্ত্রীর মনে এত প্রেম আছে যে পুরো দুনিয়া একদিকে এবং স্ত্রী বা নারীর প্রেম অন্য দিকে রাখলেও প্রেমের কোন কমতি পড়ে না। এরপর দেবশ্রী নারদ ভগবানের সৃষ্টি করা নারীকে স্পর্শ করে বলল, হে প্রভু আপনার সৃষ্টি করা এই নারী তো? অতি কোমল, এ কি করে এত কিছু করতে পারে? 

একথা শুনে ভগবান বলেন হে দেবশ্রী আমার সৃষ্ট এই নারীকে স্পর্শ করলে যতটা কমল লাগছে তার ভেতর থেকে একেবারেই বিপরীত অর্থাৎ কঠিন এই সৃষ্টি এত বিচিত্র বলেই তো এত সময় সাপেক্ষ।  স্ত্রী বা নারীকে যে পাত্রে রাখা হবে এটা ঠিক সেই বস্তুরই আকার ধারণ করবে. অর্থাৎ যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিকে এরা অতি সহজেই জয় করতে পারবে। এই সৃষ্টি কোমল হলেও তা কখনোই কমজোর হবে না, এরপর দেবর্ষি ভগবানের সৃষ্ট নারীর গালে হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখেন যে তার হাতের জল জাতীয় এক পদার্থ লেগে আছে। 

ভগবানের কাছে দেবশ্রী হাতে লাগা এই পদার্থটি কি তা জানতে চাইলেন, তখন ভগবান বললেন এটা হলো অশ্রু বা চোখের জল, তখন দেবশ্রী অবাক হয়ে ভগবানকে জিজ্ঞেস করলেন এমন বিচিত্র সৃষ্টির চোখে অশ্রু কেন? তখন ভগবান বলেন যখন প্রচন্ড কোনো প্রতিকূল সময় আসে যা সহ্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন এই নারী তার সমস্ত দুঃখ ব্যাথা চোখের জল অর্থাৎ অশ্রুর মধ্য দিয়ে বাহিত করে পরে আবার নিজেকে আরো মজবুত বা শক্ত করে নেয়।

এই সৃষ্ট নারী বা স্ত্রী সর্বদা পরিবারের সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং নিজের পরিণতির কথা চিন্তা না করে সব রকম পরিস্থিতিতে পরিবারের সকলের ভালোর কথা চিন্তা করবে।

ভগবানের একথা শুনে দেবশ্রী আরো বলেন হে প্রভু এই নারী বা স্ত্রী যখন এত বিচিত্র গুণ সম্পন্ন আপনার এই সৃষ্টি কি পূর্ণ? তখন ভগবান বলেন, না।

কারণ এখনো এর মধ্যে কিছু কমতি আছে, তা হল এত কিছু করার পরও এই নারী তার নিজের গুরুত্বকে ভুলে যায় সে নিজেই।

এরা সকলের ভালোর জন্য চিন্তা করলেও কখনোই এরা প্রতিদানে কোনো কিছু আশা করে না। 

প্রতিদিনই তাদের একটি করে নতুন সংগ্রাম শুরু হয়, এক একটি নতুন সংগ্রামের জন্য এক একটি নতুন রূপ ধারণ করতে হয়। কখনো এরা মেয়ে, কখনো স্ত্রী, আর কখনো এরা মা, এ যেন সত্যিই এক বিচিত্র সৃষ্টি।

 আজ এই পর্যন্তই, যদি এই স্ক্রিপ্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন। এরকম আরো অজানা তথ্য সবার আগে  জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের নোটিফিকেশন বেল অন করে রাখুন।  (ধন্যবাদ)

0/Post a Comment/Comments